সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তি
হজ ২০২৮: এখন যা প্রস্তুত রাখবেন এবং নিরাপদে যেভাবে টাকা দেবেন
হজ ২০২৭-এর নিবন্ধন শেষ হয়েছে। হজ ২০২৮-এর মৌসুম কীভাবে এগোবে, এখনই যে কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য প্রস্তুতি শুরু করবেন, কীভাবে প্যাকেজ বাছাই করবেন, নিরাপদে টাকা পরিশোধের নিয়ম এবং আমাদের ফেরত নীতি।
বর্তমান অবস্থা
হজ ২০২৭-এর নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হয়েছে; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সময় বাড়ায়নি। এখন যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরা যাবেন হজ ২০২৮-এ, যা ২০২৮ সালের মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা (সঠিক দিন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে)।
প্রতি বছরের নিবন্ধনের সময়সূচি ও ফি মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে। হজ ২০২৭-এ সরকারি ই-হজ সিস্টেমে প্রাক-নিবন্ধনে ৩০,০০০ টাকা এবং প্রাথমিক নিবন্ধনে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছিল। হজ ২০২৮-এর অঙ্ক এখনো ঘোষণা হয়নি; ঘোষণা হলেই আমরা জানিয়ে দেব।
একটি হজ মৌসুম যেভাবে এগোয়
সৌদি হজ রোডম্যাপ ও বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুযায়ী প্রতি বছর মোটামুটি একই পথে কাজ এগোয়:
- ১ মন্ত্রণালয় নিবন্ধনের সময়সীমা, প্যাকেজের খরচ ও জমার পরিমাণ ঘোষণা করে।
- ২ হাজিরা ই-হজ সিস্টেমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অথবা আমাদের মতো লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন ও প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
- ৩ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
- ৪ ভিসা, ফ্লাইট, মিনার তাঁবু ও হোটেলের ব্যবস্থা হয়; হাজিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন ও টিকা নেন।
- ৫ হজের কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয় এবং হজের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিরতি ফ্লাইট চলে।
এখনই যা প্রস্তুত রাখবেন
- ফেরার পর অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকবে এমন বাংলাদেশি পাসপোর্ট।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ) এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব: হজ ২০২৭-এর নিবন্ধনে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক ছিল (পরিবারের সদস্যরা একটি হিসাব ব্যবহার করতে পারেন)।
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-হজ সিস্টেমের জন্য বসবাসের কাগজও লাগবে।
হজের পাঁচ দিন
যাওয়ার অনেক আগে থেকেই হজের রূপরেখা জানা থাকলে প্রতিটি দিন এলে তা পরিচিত মনে হয়:
- ১ ৮ জিলহজ (তারবিয়া): মক্কায় হজের ইহরাম বেঁধে মিনায় যাওয়া, সেখানে দিন ও রাত ইবাদতে কাটানো।
- ২ ৯ জিলহজ (আরাফা): হজের মূল রুকন। দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় দোয়া ও যিকিরে অবস্থান, এরপর রাত কাটাতে মুজদালিফায় যাওয়া ও কংকর নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ।
- ৩ ১০ জিলহজ (ঈদ): জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ, কোরবানি, চুল মুণ্ডন বা ছাঁটা, এরপর তাওয়াফে ইফাদা ও হজের সাঈ।
- ৪ ১১ থেকে ১৩ জিলহজ: মিনায় রাত যাপন এবং প্রতিদিন দুপুরের পর তিন জামরায় কংকর নিক্ষেপ; ১২ তারিখের কংকর নিক্ষেপের পর মিনা ছেড়ে যাওয়া যায়।
- ৫ মক্কা ছাড়ার আগে: বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে বিদা), শহরে হাজির শেষ আমল।
সঞ্চয়ের পরিকল্পনা
হজের অর্থ কয়েক ধাপে পরিশোধ করতে হয়: নিবন্ধনের সময় সরকারি জমা, এরপর চূড়ান্ত নিবন্ধনের আগে প্যাকেজের বাকি অর্থ। এখন থেকে নিবন্ধন খোলা পর্যন্ত প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমালে খরচ ভাগ হয়ে যায় এবং শেষ মুহূর্তে ঋণ নিতে হয় না। নিবন্ধনে যে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করবেন সেখানেই টাকা রাখুন, যাতে মন্ত্রণালয় নিবন্ধন চালু করার দিনই জমার টাকা প্রস্তুত থাকে।
যা সাথে নেবেন
পুরুষদের জন্য দুই সেট ইহরাম ও নারীদের জন্য শালীন পোশাক, আগে থেকে পরে অভ্যস্ত আরামদায়ক স্যান্ডেল, সুগন্ধিমুক্ত সাবান ও টুথপেস্ট, মিনা ও আরাফার জন্য ছোট ব্যাকপ্যাক, ভাঁজ করা জায়নামাজ, পানির বোতল, প্রেসক্রিপশনসহ ওষুধ এবং ফোনের জন্য পাওয়ার ব্যাংক। কর্মশালায় আমাদের টিম প্রত্যেক হাজিকে একটি পূর্ণ তালিকা দেয়।
যাওয়ার আগে আমলগুলো শিখে নিন
যেসব হাজি প্রতিটি দিনের কাজ আগে থেকে জেনে যান, হজ তাঁদের জন্য সবচেয়ে সহজ হয়। বাংলায় নির্ভরযোগ্য হজ গাইড পড়ুন, বিশ্বস্ত আলেমদের ব্যাখ্যায় আমলগুলো দেখে নিন এবং আমাদের হজ কর্মশালায় অংশ নিন, যেখানে মিনা, আরাফা ও মুজদালিফার মানচিত্রসহ হজের প্রতিটি দিন, প্রতিটি পর্যায়ের দোয়া এবং হাজিদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলো ধাপে ধাপে বোঝানো হয়। আমলগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে হৃদয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মন দিতে পারে: আরাফায় আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো।
স্বাস্থ্যের প্রস্তুতি
হজে শরীরের ওপর অনেক চাপ পড়ে: গরমে দীর্ঘ হাঁটা, মিনা ও মুজদালিফায় রাত কাটানো এবং কংকর নিক্ষেপের দিনের ভিড়। এখন থেকেই প্রতিদিন হাঁটা শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে একটানা এক ঘণ্টায় নিয়ে যান। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন, এবং ওষুধ কীভাবে বহন ও সংরক্ষণ করবেন তা পরিকল্পনা করুন। প্রত্যেক হাজির জন্য সৌদি আরব মেনিনজাইটিস (ACWY) টিকা বাধ্যতামূলক করেছে, আর অন্য কোনো টিকা লাগলে মন্ত্রণালয় প্রতি মৌসুমে তা ঘোষণা করে।
হজ প্যাকেজ বাছাই
প্যাকেজগুলোর মূল পার্থক্য হারাম থেকে হোটেলের দূরত্ব, মিনার তাঁবুর মান এবং মক্কা ও মদিনায় কতদিন থাকবেন তাতে। শিফটিং প্যাকেজে সবচেয়ে ব্যস্ত দিনগুলোতে হারাম থেকে একটু দূরের হোটেলে থাকতে হয় এবং খরচ কম; নন-শিফটিং প্যাকেজে পুরো সময় এক হোটেলে থাকা যায়। ভিআইপি প্যাকেজে হারামের সবচেয়ে কাছের হোটেল ও মিনায় সবচেয়ে আরামদায়ক তাঁবু থাকে। যেটিই বেছে নিন, নিশ্চিত হোন যে দলের সাথে একজন অভিজ্ঞ আলেম থাকবেন এবং যাত্রার আগে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।
নিরাপদে টাকা পরিশোধ
প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ শুধুমাত্র আন্তরিক ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল, চলতি হিসাব নং ২৭১১, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, পল্টন শাখা-এ জমা দিতে হবে। অন্য কোনো হিসাবে বা কোনো ব্যক্তি বা এজেন্টের মাধ্যমে টাকা দেবেন না।
মূল্য ও অর্থ ফেরত
- সৌদি সরকার কোনো খাতে হঠাৎ ব্যয় বাড়ালে, অথবা বিনিময় হার, বিমানভাড়া বা মুয়াল্লিম ফি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হলে প্যাকেজ মূল্য সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
- চূড়ান্ত নিবন্ধনের পর কেউ হজে যেতে না পারলে শুধু বিমান টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।
- বিমান টিকিট ইস্যু হয়ে গেলে প্রযোজ্য কর্তন সাপেক্ষে এয়ারলাইনের নীতি অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
- ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস, বিমানের ভেতরের সেবা, অতিরিক্ত লাগেজ এবং ঢাকা ও সৌদি বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা এয়ারলাইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
প্রশ্ন আছে?
হজ জীবনের সফর, আর প্রত্যেক পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা। পুরানা পল্টনে আমাদের অফিসে আসুন, ফোন করুন বা হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিন; আমাদের টিম আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবে এবং ধাপে ধাপে হজ ২০২৮-এর পরিকল্পনায় সাহায্য করবে।